সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
অনিয়মের আঁতুড়ঘর সিবিআইইউ-০২ : বাস কাউন্টার নাকি বিশ্ববিদ্যালয়! নকলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত ১৭ হাজার পশু : চাহিদার তুলনায় সাড়ে ৭ হাজার বেশি মাগুরা শ্রীপুরে দ্বন্দ্বের বলি হলো তিন শতাধিক গাছ বাঙালির মুক্তির সনদ ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ওয়াকার-উজ-জামান সেনাপ্রধান হওয়ায় শেরপুরে আনন্দ র‍্যালি নবনিযুক্ত সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানকে শেরপুর জেলা উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের অভিনন্দন নতুন সেনাপ্রধান শেরপুরের সন্তান ওয়াকার-উজ-জামান কারারক্ষী আল মামুনের ফাঁদে সর্বস্বান্ত ছয় জেলার ব্যবসায়ীরা অভাবনীয় উদ্ভাবন “পঞ্চগৃহী” ধান, একবার রোপনে পাঁচবার ফলন সরকারি মাল দরিয়ায় ঢাল!

শেরপুরের শ্রীবরদী রেঞ্জের বনায়নের ১০ কোটি টাকার গরমিল

সাজিদ হাসান শান্ত, শ্রীবরদী (শেরপুর) / ১০ বার
আপডেট সময় :: সোমবার, ১০ জুন, ২০২৪, ২:৪৪ অপরাহ্ন
শেরপুরের শ্রীবরদী রেঞ্জের বনায়নের ১০ কোটি টাকার গরমিল

শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার রেঞ্জ কর্মকর্তা বালিঝুড়ি রেঞ্জের সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারি বনায়ন প্রকল্পের অন্তত ১০ কোটি টাকার রাজস্ব গরমিল পেয়েছে বন বিভাগ। বনের বাগান বিক্রি হলেও বিক্রির টাকা সরকারি হিসাবে জমা হয়নি। এর জন্য দায়ি করে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বনের সদ্য বদলী হওয়া বন কর্মকর্তা (রেঞ্জ অফিসার) রবিউল ইসলামকে।

অভিযোগ ওই বনায়ন প্রকল্পের টাকা মেরে দিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। বাগান বিক্রির টাকার মধ্যে শতকরা ৬০ ভাগ টাকা সরকারের রাজস্ব বাকি আর ৪০ ভাগ ওই প্রকল্পের সাথে জড়িত কয়েকশ উপকারভোগী পাহাড়ি গরীব মানুষ পাওয়ার কথা কিন্তু ৪ বছর রেঞ্জার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পরেও গেল ২ ফেব্রুয়ারি তিনি নিজস্ব জেলা জামালপুরে বদলি হন।

এর আগের দুই বছর তিনি ওই রেঞ্জেই দুই বছর বিট কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বদলি হওয়ার পর বিষয়টি বন বিভাগের নজরে আসলে নড়েচড়ে বসে বন বিভাগ। বন বিভাগ ঘটনার তদন্ত শুরু করে মাস খানেক আগে থেকেই। এই বিষয়ে তদন্তে পাঁচ সদস্য করে দুইটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি করেছে বন বিভাগ। এদিকে অংশীদারিত্বের টাকা খোয়া যাওয়ার আশংকায় আছেন উপকার ভোগি শতশত পাহাড়ের অসহায় গরীব পরিবারগুলো। ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে সরকারি ওই বনের রেঞ্জ অফিসে সুবিধাভোগীরা দিনরাত ঘুরছে। তদন্ত কমিটিও আসছে ঘনঘন।

জানা গেছে, ওই কর্মকর্তার চাকরি কালিন সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারি বনায়নের দেড়শতাধিক বাগান অন্তত ১৬ কোটি টাকায় টেন্ডারে বিক্রি করা হয়। সরকারি আইন অনুযায়ি বাগান বিক্রিত অর্থ ঠিকাদার সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে গাছ কাটার অনাপত্তি পত্র নিয়ে
বাগান কেটে নিবেন। জমাকৃত টাকা থেকে বন কর্তৃপক্ষ অংশীদারি জনগকে যার যার অংশ বোঝিয়ে দিবে। ঠিকাদাররা বাগান কেটে নিয়ে গেছেন। কিন্তু সরকারি কোষাগারে টাকা জমা হয়নি।

সূত্র জানিয়েছে, ওই কর্মকর্তা ঠিকাদারের কাছে থেকে নির্ধারিত টাকা ব্যক্তিগত ভাবে জমা নিয়ে গাছ কাটার মৌখিক অনুমতি দিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু সরকারি তহবিলে জমা দেননি টাকা।

অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্ত রবিউল আলম ঠিকাদার সিন্ডিগেটের একটি বড় অংশের সাথে গোপনে অংশীদার ছিলেন। ওই সিন্ডিকেটকে কাজ পাইয়ে দিয়ে মিলেমিশে সরকার ও প্রকল্পের অংশীদার সাধারনের টাকা তছরুপ করেছেন। এখানে চাকরিকালিন সরকারি
দলের এক কেন্দ্রীয় নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে মহা দাপটে চাকরি করেছেন। কেউ তিনার বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেননি।

উপকার ভোগীরা বলেন, আমাদের কষ্টের টাকাটা দিলেই আমারা খুশি। অভিযুক্ত রেঞ্জার রবিউল ইসলাম কোন কথা বলবেন না বলে ফোন কেটে দিয়েছেন। তারপর তাকে আর ফোনে পাওয়া যায়নি। ওই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত ও তদন্ত কমিটির কথা স্বীকার করে তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব সহকারি প্রধান বন সংরক্ষক সাদেকুল ইসলাম বলেছেন টাকার গরমিল আছে। তবে তদন্তাধীন বিষয় নিয়ে আমি আর মন্তব্য করতে চাই না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!